দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় দেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে পরিচিত ছিল চামড়া শিল্প। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সেই বাজারের বড় অংশ হাতছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে কোরবানির মৌসুমে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া।
তবে সংকটের মধ্যেও চলতি মৌসুমে এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অভাব, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপির অকার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ না পাওয়াই চামড়া শিল্পের বড় সংকট।
তাদের দাবি, কাঁচা চামড়ার দাম না বাড়লেও বাজারে জুতা-স্যান্ডেলের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে ইউরোপ-আমেরিকার উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় কম।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু বড় ঋণগ্রহীতার কারণে পুরো খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিইটিপির দুর্বলতার কারণে বহু বছর পরও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারেনি দেশের চামড়া শিল্প। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের এলডব্লিউজি সনদ না থাকায় উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।
তাদের মতে, পরিকল্পিত নীতি, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ এবং বাজার বহুমুখীকরণ ছাড়া চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ পাবে না।
এমএস/